This site is not for UNDER 18 people. If you are not over 18, then please donot look forward. Disclaimer: Some content of this blog are also collected from various site.
Saturday, January 12, 2013
কলিকাতা হারবালসহ বিভিন্ন হারবালের এবং যৌন রোগের পোষ্টারে আক্রান্ত সারা দেশ । নিয়ন্ত্রনের কেউ নেই !!!!
কয়েকদিন আগে একটি লোকাল বাসে মিরপুর ১০ থেকে ফার্মগেইটের দিকে আসছিলাম। বসে ছিলাম জানালার পাশে, কানে হেডফোন লাগিয়ে রেডিও শুনছিলাম। সেনপাড়া পর্বতার সামনে বাস ব্রেক কষতেই অনেক গুলো কাগজ এসে পড়লো কোলের কাছে। চার রঙা প্রিন্টে যাবতীয় যৌন রোগের সমস্যা সমাধানের উপায় সম্বলিত কথামালা দেখেই জানালা দিয়ে লজ্জায় ছুড়ে ফেলে দিলাম। লজ্জা বললাম এই কারনে যে আমার পাশের সীটে মধ্যবয়সী একমহিলা বসেছিলেন। যখন লিফলেট গুলো হাতে নিয়েছিলাম তখন তার বাঁকা চোখ লক্ষ্য করেছিলাম। এ অবস্হা শুধু ঢাকার জনাকীর্ণ স্হানই নয় সারাদেশেই একই অবস্হা। শুধু তাই নয় লোকাল বাসগুলোর জানালার কাঁচে স্ক্রীন প্রিন্ট করে যৌন রোগের রগরগে বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে।
যা চোখে পড়ামাত্রই লজ্জায় মাথা অবনত করতে হয়। বিশেষ করে পরিবারের কোন সদস্যের সাথে বাসে উঠলে বিব্রত হতে হয়। এসব কিছু ছাড়িয়ে ড্রয়িং রুম, বেডরুমে হানা দিয়েছে কলিকাতা হারবাল।
টেলিভিশনের ক্যাবল অপারেটররা মনে হয় বিশাল অংকের টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে এই হারবাল কোম্পানীর সাথে। বিজ্ঞাপনের জ্বালা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের চোখ রাখতে হয় ক্যাবল অপারেটর চালিত ভিডিও চ্যানেলের পর্দায় কিন্তুসেখানে আরো লজ্জা অপেক্ষা করছে।
পরিবারের সব সদস্যের সাথে বসে টেলিভিশন দেখা সত্যিই ভয়াবহ লজ্জার ব্যাপারই বটে। যদি একটা ভালো নাটক কিংবা মুভি দেখছি এমন সময় স্ক্রীনের নিচ দিয়ে চলছে অর্শ্বভগন্দর, ধ্বজভঙ্গ, মেহ এবং মেয়েদের যাবতীয় রোগের বর্ননা এবং সমাধানের উপায়।
সবচেয় মজার ব্যাপার হচ্ছে অনুষ্ঠানেরমাঝপথে শুরু হয় বিজ্ঞাপন এবং এইসব বিজ্ঞাপনের মডেল আমাদের অতিপরিচিত রুপালী পর্দার মুখ নায়ক অমিত হাসান, খালেদা আক্তার কল্পনা, রীনা খান, ডন, মিজু আহমেদ, জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা রিফাত। এরা নাকি সকলেই কলিকাতা হারবালের চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ!!!!!
সত্যিই অবাক হতে হয় এইসব অভিনেতা অভিনেত্রী শুধু মাত্র টাকার জন্য এইসব ভাওতাবাজ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের মডেল হচ্ছে। একজন সচেতন মানুষ কি এইসব হারবালের চিকিত্সা নিতে যায়? প্রশ্নটা মাথায় খুব ঘুরপাক খায়। এইসব প্রতিষ্ঠানের চিকিত্সায় হেপাটাইটিস বি, লিভার সমস্যা, ক্যান্সার, জটিল ও কঠিন রোগের ১০০ ভাগ গ্যারান্টি দিয়ে চিকিত্সা করা হয়।
গ্যারান্টি টা কি সেটা আমার জানা হয় নি। একাধিকবার স্বর্ণপদক প্রাপ্তঃ কলিকাতা হারবাল সহ যে সব হারবাল কোম্পানীগুলো বিজ্ঞাপনে বড় বড় হরফে লিখে দেয় একাধিকবার স্বর্ণপদক প্রাপ্ত। প্রশ্ন হচ্ছে এরা কোন প্রতিযোগীতায় এরা স্বর্ণপদক পায়? নাকি সরকার প্রতিবছর দেশের চিকিত্সা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চিকিত্সাসেবার জন্য স্বর্ণপদক প্রতিযোগীতা চালু করেছে আর এই প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহনের প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করতেপারে না, ক্যান্সারের ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বীকন, স্কয়ার, ইনসেপ্টা, গ্ল্যাক্সোস্মিথ ক্লাইন,রেনাটা ,এভেন্টিস, বেক্সিমকো, রোস, অপসোনিন, জেনারেল, ওরিয়ন, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কিংবা সরকারের নিজস্ব ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস ?
পোস্টার কিংবা টিভির সেইসববিজ্ঞাপনে দেখা যায় তারা পদক গ্রহন করছেন। অদৌ সেইসব মন্ত্রী কি জানেন তারা কাকে এবংকেন পদক কিংবা ক্রেস্ট প্রদান করছেন! এর একটা ব্যাখ্যা আমি দাড় করিয়েছি-
তথাকথিত হারবাল কোম্পানীর মালিকের গ্রামের বাড়ীতে নিশ্চই কিছু কিছু ক্লাব থাকে। প্রথমে তারা সেই
ক্লাবকে মোটা অংকের ডোনেট করে। এরপর তারা এলাকার মান্যিগন্যি সংবর্ধনার জন্য একটা বড় ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং ধর্না দিয়ে একজন মন্ত্রীকে প্রধান অতিথি হিসেবে ইনভাইট করে।
মোটা টাকা খরচ করলে সবই সম্ভব। সেই মান্যিগন্যি তালিকায় হারবাল কোম্পানীর মালিকও থাকে। মন্ত্রীর হাতথেকে পদক নেয়ার সময় ফটাফট ক্যামেরার ঝলসানি এবং তার প্রিন্ট আউট শোভা পায় কলিকাতা কিংবা যাবতীয় হারবালের পোস্টারে। বানিজ্য মন্ত্রালয়ের অনুমোদন পাক বা না পাক এগুলো হয়ে যায় লিমিটেড কোম্পানী। কিংবা পাত্তির তোড়ে লিমিটেডের কাগজও যোগাড় হয়ে যায়।
যাই হোক আমাদের দেশ বলেই হয়তো অনেক কিছুই সম্ভব, যেমনটা সম্ভব প্রশাসনের নাকের ডগায় ভয়াবহ
মিথ্যা প্রচারনা। প্রশাসন কতটা দুর্বল হলে এই ধরনের কর্মকান্ড সম্ভব।
অতঃপর বলতে হয়, হায়, "সেলুকাস! বিচিত্রএই দেশ!!"
এখন আপনাদের কাজ হচ্ছে এগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
কিভাবে রুখে দাঁড়াবেনঃ-
1. আপনার এলাকার কয়েকজন বন্ধু মিলে কেবল অপারেটার অফিসে যাবেন, তাদেরকে এসব এ্যাড দিতে নিষেধ করেন।
2. দেয়ালে পোষ্টার লাগাতে দেখলে নিষেধ করেন। দেয়ালে কোন পোষ্টার দেখলে তা ছিড়ে ফেলুন।
3. রাস্তায় চলাচলের সময় কেউ এসবের বিজ্ঞাপন ছুঁড়ে মারলে, তাকে বলেন এসব যেন না করে। যদি তর্ক বিতর্ক করে তাহলে একটা প্রবাদ কাজে লাগাবেন- সোজা আঙ্গুলে ঘি না ওঠলে, বাঁকা আঙ্গুলে ওঠাতে হয়।
পরিশেষে বলবো আপনারা সবাই জানেন, এর প্রতিরোধ কিভাবে করা যায়, শুধু একটু স্বদিচ্ছাই দরকার।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment